তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহের নাম কী?
কী ধরণের উপগ্রহ? প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নাম কোথা থেকে উৎক্ষেপন করা হয়? স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নাম কী?
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের ভূ-উপগ্রহ কোথায় অবস্থিত?
১১৯.১° পর্ব দ্রাঘিমায় ক্লার্ক কক্ষপথে অবস্থিত
প্রশ্নঃ গ্লাবালাইজেন কী
প্রশ্নঃ গ্লোবালাইজেশনের উপকারিতা ও অপকারিতা তুলে ধরুন।
প্রশ্নঃ বর্তমান বিশ্বে গ্লোবালাইজেশনের চ্যালেঞ্জসমূহ কী কী?
প্রশ্নঃ চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বলতে কী বোঝেন?
প্রশ্নঃ স্মার্ট বাংলাদেশ সম্পর্কে আলোচনা করুন।
উত্তরঃ
স্মার্ট বাংলাদেশ-২০৪১
রূপকল্প ২০৪১ এর অভীষ্ট অর্জন দ্রুততর করতেই স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১ রূপকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ এর ভিত্তিমূলে রয়েছে দুটি প্রধান অভীষ্টঃ
⇨ প্রথমত ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত দেশ, যেখানে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার
⇨ দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ হবে সোনার বাংলা, যেখানে দারিদ্র্য হবে দূরবর্তী অতীতের ঘটনা
সরকার অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যাপক ব্যবহার করে ২০৪১ সালের মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আইসিটি খাতের অবদান ২০ শতাংশের বেশি নিশ্চিত করতে চায়।
দেশের প্রথমবারের মতো Smart Bangladesh Summit ও Expo অনুষ্ঠিত হয় ⇨ ২০২৩ সালের ৯ জুন
গত ৭ এপ্রিল (২০২২), ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের তৃতীয় সভায় প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী সর্বপ্রথম স্মাট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ⇨ ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর
স্মার্ট বাংলাদেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক
⇨ একটি উদ্ভাবনী জাতি গঠন
⇨ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সমাজ গঠন
⇨ একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠন
স্মার্ট বাংলাদেশের ভিত্তিঃ
পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশ তাদের দেশকে স্মার্ট হওয়ার কারণগুলো চিহ্নিত করেছে ৫ টি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে-
⇨ স্মার্ট সিটিজেন
⇨ স্মার্ট লিভিং
⇨ স্মার্ট ইনভায়রনমেন্ট
⇨ স্মার্ট মবিলিটি
⇨ স্মার্ট গভর্নমেন্ট
তবে "স্মার্ট বাংলাদেশ" গড়ার চারটি স্তম্ভ। যথাঃ
⇨ স্মার্ট সিটিজেন
⇨ স্মার্ট ইকোনমি
⇨ স্মার্ট সোসাইটি
⇨ স্মার্ট গভর্নমেন্ট
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে "স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্স" গঠন করা হয়েছে ⇨ ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট
স্মার্ট বাংলাদেশের অন্যতম অনুষঙ্গ বিষয়ঃ
⇨ রোবটিকস
⇨ কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা
⇨ ন্যানো- বায়োটেকনোলজি
⇨ কম্পিউটিং
⇨ ইন্টারনেট অব থিংকস
⇨ থ্রিডি প্রিন্টিং
⇨ স্বয়ংক্রিয় যানবাহন
স্মার্ট বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হলো, আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, ইন্টারনেট অব থিংস, রোবটিকস, ব্লকচেইন, ন্যানো টেকনোলজি, থ্রিডি-প্রিন্টিং এর মতো আধুনিক ও নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি, যোগাযোগ, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বাণিজ্য, পরিবেশ, শক্তি ও সম্পদ, অবকাঠামো, বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেন, সাপ্লাই চেইন, নিরাপত্তা, এন্টারপ্রেনারশিপ, কমিউনিটিসহ নানা খাত অধিকতর দক্ষতার দ্বারা পরিচালনা করা হবে।
স্মার্ট বাংলাদেশ হবে সাশ্রয়ী, টেকসই, জ্ঞানভিত্তিক, বুদ্ধিদীপ্ত ও উদ্ভাবনী।
স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপঃ
২০২২ সালের ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান করে ৩০ সদস্যের স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্স এর কার্যাবলিঃ
স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্স এর কার্যপরিধি সুষ্পষ্ট করা হয়েছে-
১। অগ্রসরমাণ তথ্যপ্রযুক্তি বাস্তবায়ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান
২। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও আর্থিক খাতের কার্যক্রম স্মার্ট পদ্ধতিতে রূপান্তরের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা প্রদান
৩। স্মার্ট ও সর্বত্র বিরাজমান সরকার গড়ে তোলার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক, বাণিজ্যিক ও বৈজ্ঞানিক পরিমন্ডলে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিধিবিধান প্রণয়নে দিকনির্দেশনা প্রদান
৪। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান
৫। Agency for Knowledge on Aeromatical and Space Horizon (AKASH) প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান
৬। বেন্ডেড এডুকেশন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ফাইভজি সেবা চালু পরবর্তী সময়ে ব্যান্ডউইথের চাহিদা বিবেচনায় চতুর্থ সাবমেরিন ক্যাবলে সংযোগের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান
৭। রপ্তানির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে "মেইড ইন বাংলাদেশ" পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সময়াবদ্ধ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে দিকনির্দেশনা প্রদান
৮। আর্থিক খাতের ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান
৯। স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১ বাস্তবায়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা প্রদান
স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটিঃ
২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিবের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।
স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটির কার্যাবলিঃ
১। বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানবিত্তিক অর্থনীতি উদ্ভাবনী জাতি হিসেবে স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১ প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সুপারি প্রদান
২। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও আর্থিক খাতের কার্যক্রমকে স্মার্ট পদ্ধতিতে রূপান্তরের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন
৩। স্মার্ট ও সর্বত্র বিরাজমান সরকার গড়ে তোলার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক, বাণিজ্যিক ও বৈজ্ঞানিক পরিমন্ডলে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিধিবিধান প্রণয়ন
৪। স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সৃষ্টি এবং সকল পর্যায়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও দিক নির্দেশনা প্রদান
৫। স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে সরকারি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং এর উন্নয়নে একটি দক্ষ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ
৭। রপ্তানির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মেড ইন বাংলাদেশ পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সময়াবদ্ধ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ
৮। আর্থিক খাতের ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ
৯। স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১ বাস্তবায়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ
৯। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্স কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান
স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে চ্যালেঞ্জসমূহঃ
⇨ ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা
⇨ কানেকটিভিটি সুদৃঢ় করা
⇨ সাশ্রয়ী মূল্যে ডিভাইসের ব্যবস্থা করা
⇨ মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ানো
⇨ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ক্যাপাসিটি বাড়ানো
⇨ ডাটা কমিউনিকেশন ডেবেলপমেন্ট ক্যাপাসিটি বাড়ানো
⇨ আইসিটি তথ্য টেলিকমসহ মিনিস্ট্রিগুলোকে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে
Comments