বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

বখতিয়ার খলজীর বাংলা জয়
মুহম্মদ ঘুরীর সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবেকের অনুমতিক্রমে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী ১২০৪ সালে বাংলার শেষ স্বাধীন রাজা লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া (বাংলা) দখল করেন। এর মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়। উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক দস্ত-ই-মার্গ) এলাকার বাসিন্দা বখতিয়ার খলজী তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন। বখতিয়ার খলজী নদীয়া জয় করার পর ১২০৫ সালে সেনদের অন্যতম রাজধানী লক্ষ্মণাবতী (গৌড়) অধিকার করেন। এ সময় থেকেই লক্ষ্মণাবতীর নাম হয় লখনৌতি।

বাংলায় তুর্কি শাসন
বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রাথমিক পর্যায় ছিল ১২০৪ সাল থেকে ১৩৩৮ সাল পর্যন্ত। এ যুগের শাসনকর্তারা সকলেই দিল্লির সুলতানের অধীনে বাংলার শাসনকর্তা হয়ে এসেছিলেন। অনেকে শাসনকর্তাই দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছিলেন। তবে এদের বিদ্রোহ শেষ পর্যত সফল হয়নি। ঘন ঘন বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার জন্য দিল্লির ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারাণী 'তারিখ-ই-ফিরোজশাহী' গ্রন্থে বাংলার নাম দিয়েছিলেন ‘বলগাকপুর’ বা বিদ্রোহের নগরী।

হযরত শাহ জালালের (র.) বাংলায় আগমন
হযরত শাহ জালাল ১২৭১ সালে তুরস্কের কুনিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মুহম্মদ এবং তিনি ছিলেন ইয়েমেনের একজন সুফী। সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজের শাসনামলে হযরত শাহ জালাল (র.) ৩৬০ জন আউলিয়া (শিষ্য) সহ বাংলাদেশে আসেন। বিখ্যাত সুফী শাহ পরাণ (র.) ছিলেন তাঁর ভাগ্নে এবং শিষ্য। এ সময় সিলেটের রাজা ছিলেন গৌর গোবিন্দ। সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজের সেনয়দল দুইবার সিলেট জয়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। হযরত শাহ জালাল (র.) শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের সৈন্যদের সঙ্গে গৌর গোবিন্দের বিরুদ্ধের যুদ্ধে যোগদান করেন। গৌর গোবিন্দ পরাজিত হয়ে সিলেট ত্যাগ করে জঙ্গলে আশ্রয় নেন। ঐ অঞ্চল মুসলমানদের অধিকারে আসে। হযরত শাহ জালাল (র.) মৃত্যু অবধি সিলেটে অবস্থান করেন এবং তিনিই ঐ অঞ্চলে ইসলাম বিস্তারের অগ্রনায়ক। তাঁর নামানুসার এক সময় সিলেট অঞ্চল 'জালালাবাদ' নামে পরিচিত হয়। হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহ পরাণ (র.) এর মাযার সিলেটে অবস্থিত। হযরত শাহজালাল (র.) এর ব্যবহৃত কতগুলো মূল্যবান পবিত্র দ্রব্যও মাজারের সন্নিকটে অতীব যত্নের সঙ্গে সংরক্ষিত আছে। যেমনঃ এক জোড়া কাঠের খড়ম, হরিণের চামড়ার তৈরি জায়নামাজ, একখানি তরবারি ইত্যাদি।

Comments