পাকিস্তান আমলে বাংলা

পাকিস্তানের নামকরণ
১৯৩৩ সালে চৌধুরী রহমত বলী তাঁর ‘Now or Never’ পুস্তিকায় ‘পাকিস্তান’ শব্দটি তৈরি করেন।

☞ পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল ⇨ কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিনাহ
☞ পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ⇨ কায়েদে মিল্লাত লিয়াকত আলী খান
☞ পূর্ব বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ⇨ খাজা নাজিমউদ্দিন
☞ পূর্ব বাংলার প্রথম গভর্নর ⇨ ফ্র্যাডেরিক চালমার্স বোর্ন

আওয়ামী মুসলিম লীগ
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং আবুল কাশেমের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একাংশের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলির কে এম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক দলটি পূর্ব পাকিস্তানে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভে সমর্থ হয়। ১৯৫৩ সালে মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ধর্ম নিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৫৫ সালে দলের নাম পরিবর্তন করে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ রাখা হয়।

☞ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ⇨ মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
☞ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ⇨ শামসুল হক
☞ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সম্পাদক ⇨ শেখ মুজিবুর রহমান

পূর্ববঙ্গ জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন (১৯৫০ খ্রি.)
গণদাবির মুখে ‘ফ্লাউড কমিশন’ এর সুপারিশের ভিত্তিতে মুসলিম লীগ সরকার ১৯৪৮ সালের ৩১ মার্চ ‘পূর্ববঙ্গ জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব বিল’ উপস্থাপন করে। বহুবিতর্কের পরর ১৯৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে বিলটি ‘পূর্ববঙ্গ জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন’  (East Bengal State Acquisition and Tenancy Act) এ পরিণত হয়। এর ফলে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়। Special Committee on the East Bengal State Acquisition and,Tenancy Bill এর Chairman ছিলেন এ কে ফজলুল হক। ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা বিলোপের মাধ্যমে বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বিলোপ ঘটে।

ভাষা আন্দোলনঃ Click here for details

১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক নির্বাচন ও যুক্তফ্রন্ট
নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগকে চরম শিক্ষা দেওয়ার জন্য ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর সমমনা কয়েকটি বিরোধীদল ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে একটি ঐক্যজোট গঠন করে। যুক্তফ্রন্টে দলের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ আছে। যথাঃ-
৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলাদেশ এবং বিশ্ব পরিচয়' মতে ৪ টি দল। যথাঃ-
১) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ
২) এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক পার্টি
৩) মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী
৪) হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী গণতন্ত্রী দল

বাংলা পিডিয়া মতে ৫ টি দল। যথাঃ-
১) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ
২) এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক পার্টি
৩) মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী
৪) হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী গণতন্ত্রী দল
৫) খিলাফতে রব্বানী পার্টি

নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা এবং ২১ দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। ২১ দফা কর্মসূচীর মূখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। ২১ দফার প্রধান দফাগুলো হলোঃ
১) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা
২) ১৯৪০ এর লাহোর প্রস্তাব অনুযায়ী পূর্ব বাংলাকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান প্রভৃতি।
১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের অবস্থানঃ
পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ আসন বিন্যাস যুক্তফ্রন্ট প্রাপ্ত আসন সংখ্যা
ক) মুসলিম ২৩৭ ২২৩
খ) অমুসলিম ৭২ ১৩
মোট (ক+খ) ৩০৯ ২৩৬

১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার নির্বাচন এবং পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে। নির্বাচনে মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট পূর্ব বাংলায় মন্ত্রিসভা গঠন করে। মন্ত্রিসবার মুখ্যমন্ত্রী হন এ জে ফজলুল হক। শেখ মুজিবুর রহমান এই মন্ত্রিসভায় কৃষি, সমবায়, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল। পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে ফজলুল হক মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে  দিয়ে বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারি করেন।

পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র, ১৯৫৬

Comments