বাংলায় পাল বংশ ইতিহাস
মাৎস্যন্যায়
৭ম-৮ম শতক কে পাল তাম্র শাসনে আখ্যায়িত করা হয়েছে 'মাৎস্যন্যায়' বলে। সন্ধ্যাকর নন্দীর 'রামচরিতম' কাব্যেও পাল বংশের অব্যবহিত পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্যকর অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় বলে উল্লেখ করা হয়। মাৎস্যন্যায় ধারণাটি বলতে আইন-শৃঙ্খলাবিহীন আরাজক অবস্থাকে নির্দেশ করে।
গোপাল (৭৫৬-৭৮১ খ্রি.)
পাল বংশের প্রথম রাজা ছিলেন গোপাল। বাংলায় প্রথম বংশানুক্রমিক শাসন শুরু হয় পাল বংশের রাজত্বকালে। পাল বংশের রাজারা একটানা চারশত বছর এদেশ শাসন করেছিল। পাল বংশের রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। পাল রাজাদের পিতৃভূমি ছিল বরেন্দ্র।
ধর্মপাল (৭৮১-৮২১ খ্রি.)
পাল রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন গোপালের পুত্র ধর্মপাল। ধর্মপালের উপাধি ছিল বিক্রমশীল।
প্রথম মহীপাল (৯৯৫-১০৪৩ খ্রি.)
বাংলার প্রাচীনতম চিত্রকলার নিদর্শন হচ্ছে পাল আমলে রাজা মহীপাল দেব এর সময়ে তালপাতায় অঙ্কিত নালন্দা মহাবিহারের 'বৌদ্ধ-অনুচিত্র'। প্রথম মহীপালের ষষ্ঠ রাজ্যাঙ্কে (৯৮৩ খ্রি.) তালপাতার উপরে চিত্রসম্বলিত বৌদ্ধ গ্রন্থ 'অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা' পাণ্ডুলিপির বারোটি রঙ্গিন চিত্র বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাচীনতম নিদর্শন।
দ্বিতীয় মহীপাল (১০৭৫-১০৮০ খ্রি.)
রাজা দ্বিতীয় মহীপালের শাসনামলে কৈবর্ত বিদ্রোহ হয়। পাল রাজাদের এক সামন্ত দিব্যর নেতৃত্বে কৈবর্তরা রাজ্যের বরেন্দীয় অংশ দখল করে নেয়। কৈবর্ত বিদ্রোহকে অনেক সময় বরেন্দ্র বিদ্রোহ বা সামন্ত বিদ্রোহও বলা হয়ে থাকে। রাজা দ্বিতীয় মহীপাল কৈবর্তবাহিনীকে আক্রমণ করতে গিয়ে নিজে নিহত হন।
মদনপাল (১১৪৩-১১৬২ খ্রি.)
পাল বংশের সর্বশেষ রাজা ছিলেন মদনপাল। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ধ্যাকর নন্দী সংস্কৃত কাব্য 'রামচরিতম' রচনা করেন।
Comments