বাংলায় বারো ভূঁইয়াদের ইতিহাস

সম্রাট আকবর পুরো বাংলার উপর অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি।  বাংলার বড় বড় জমিদাররা মুগলদের অধীনতা মেনে নেননি। ভাটি অঞ্চলের জমিদরগণ তাদের নিজ নিজ জমিদারিতে স্বাধীন ছিলেন। স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এর একজোট হয়ে মুগল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। বাংলার ইতিহাসে ভাটি অঞ্চলের এ জমিদারগণ বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত। এ বারো বলতে বারোর
 জনের সংখ্যা বুঝায় না। ধারণা করা হয়, অনির্দিষ্ট সংখ্যক বোঝাতেই বারো শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। বারো ভূঁইয়াদের মধ্যে ঈসা খাঁ, তাঁর পুত্র মুসা খাঁ, রাজা প্রতাপাদিত্য, চাঁদ রায়, কেদার রায়, ফজল গাজী, রাম কৃষ্ণ, পীতম্বর প্রমুখ ছিলেন উল্লেখযোগ্য।

ঈসা খাঁ (১৫২৯-১৫৯৯ খ্রি.)
বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খাঁ। তিনি সোনারগাঁও এ রাজধানী স্থাপন করেন। সম্রাট আকবরের সেনাপতিরা ঈসা খান ও অন্যান্য জমিদেরর সাথে বহুবার যুদ্ধ করেছেন কিন্ডু বারো ভূঁইয়াদের নেতা ঈসা খাঁকে পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। ঈসা খাঁর মৃত্যুর পর বারো ভূঁইয়াদের নেতা হন মুসা খান। এদিকে আকবরের মৃত্যু হলে মুগল সম্রাট হন জাহাঙ্গীর। তাঁর আমলেই বাংলার বারো ভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে দমন করা সম্ভব হয়। এ সাফল্যের দাবিদার সুবাদার ইসলাম খান। তিনি বারো ভূঁইয়াদের নেতা মুসা খানদের পরাস্ত করেন। ফলে অন্যান্য জমিদারগণ আত্মসমর্পণ করেন। এভাবে বাংলায় বারো ভূঁইয়াদের শাসনের অবসান ঘটে।

'এগারসিন্ধুর দুর্গ' ঈসা খানের নাম বিজড়িত মধ্যযুগীয় একটি দুর্গ। এটি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্ধুর গ্রামে অবস্থিত। 'এগারসিন্ধু' শব্দটি এখানে 'এগারটি নদী' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এ দুর্গ এ নামে পরিচিত হওয়ার কারণ হলো এক সময় এটি অনেকগুলো নদীর (বানার, শীতলক্ষা, আড়িয়াল খা্ঁ, গিয়র সিন্দা ইত্যাদি) সংযোগস্থলে অবস্থিত ছিল। ঈসা খাঁ দুর্গটিকে শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করেন।

Comments